
খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের মাটিরাঙ্গা বাজার এলাকায় ফুটপাথ ও সড়ক দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ভাসমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার এলাকায় সড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকান বসানো, ইচ্ছেমতো যাত্রী ওঠানামা, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার এলোমেলো পার্কিং এবং মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
দৈনিক যানজট ও জনদুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা। বিশেষ করে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি, আলুটিলা প্রাকৃতিক গুহা ও রিছাং ঝরনা যেতে মাটিরাঙ্গা হয়ে যাতায়াতকারী পর্যটকদেরও দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়কে যানজট নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেই। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভাসমান ব্যবসায়ী জানান, জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই তারা ফুটপাথে ব্যবসা করছেন। তারা বলেন, স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলে তারা আর ঝুঁকি নিয়ে সড়কে বসতেন না।
মাটিরাঙ্গা বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। ভাসমান দোকান উচ্ছেদ ও যানজট নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় পথচারী আবুল হাশেম বলেন, ফুটপাথ দখলের কারণে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিনই যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহেদ উদ্দিন জানান, ট্রাফিক বিভাগ আলাদা হলেও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ঈদ পরবর্তী সময়ে যানজট নিরসনে পুলিশ ও ট্রাফিক সদস্যরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রতীতি পিয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।